আরও চাঁপাইনবাবগঞ্জ লিড নিউজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভূমিহীনদের বাড়ি ভাংচুর ও মালামাল লুট করলো নির্যাতনকারী মেয়রপ্রার্থী মোখলেশুর!

Please follow and like us:

আব্দুস সোবহান তারেক→চাঁপাইনবাবগঞ্জ✍️
সরকারী তত্বাবধানের জমিতে বসবাস করা দরিদ্র অসহায়-ভূমহীন পরিবারগুলোর বাড়ি-ঘরের মালামাল লুট ও ভাংচুর করেছে সমাজ সেবক নামধারী স্বার্থান্বেসী আলহাজ্ব মো. মোখলেশুর রহমান মুখলেশ ও তাঁর বাহিনী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁর বাহিনী দিয়ে সেখানে বাস করা প্রায় ৭/৮টি পরিবারের আসবাবপত্র ভেঙ্গে দেয় এবং লুট করে নিয়ে যায়। এ সংবাদ সদর থানা পুলিশকে ভূক্তভোগী মোহবুল ও গণমাধ্যম কর্মীরা অবহিত করলেও কোন অজ্ঞাত কারণে পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলেও জানা গেছে।

এনিয়ে এলাকার সচেতন মানুষগুলোর মাঝে তিব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকটায় নিরব জেলা প্রশাসনও। সবকিছু জেনেও সরকারী জমি উদ্ধার বা রক্ষনাবেক্ষন এবং দরিদ্র অসহায়, ভূমিহীন পরিবারগুলোকে রক্ষায় এগিয়ে আসছে না জেলার সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তরই।

ফলে একজন নব্য আওয়ামীলীগ নেতার অত্যাচারে অতিষ্ট এবং সর্বশান্ত ও নিঃস্ব সরকারী জমিতে বাস করা পরিবারগুলো। জাল কাগজপত্র তৈরী করে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের সহযোগিতা নিয়ে সরকারী ১২ বিঘা জমির মধ্যে প্রায় ৮ বিঘা জমি সেখানে থাকা বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে দখলে নিয়েছে সমাজ সেবক নামধারী আলহাজ্ব মোখলেশুর রহমান।

“দীর্ঘদিন থেকেই চলা এমন ঘটনায় জেলার গণমাধ্যমকর্মী, সচেতন মহল, সমাজ সেবক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সকলে যেন নিরব দর্শকের ভূমিকায়। একদিকে, ভূমিহীন পরিবারগুলো ছোট ছোট সন্তান ও বৃদ্ধা মা, স্ত্রী নিয়ে কান্নায় বুক ভাসিয়ে আকাশ-বাতাস ভারী করছে, অপরদিকে, মোখলেশের বাহীনি সেখানে উল্লাস করছে আর আইনশৃঙখলা ও পরিবেশ রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ একেবারের নিরব।

মাছ মেরে নেয়া, বাড়ি-ঘরের উপর স্ক্যাপাটার দিয়ে মাটি চাপা দেয়া, নানাভাবে হুমকী-ধামকী দেয়াসহ ঘটনার বিবরণ দিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারী লিখিতভাবে সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি, উল্টো মোখলেশুর রহমানকে সহযোগিতা করেছে পুলিশ বলেও জানায় পরিবারের লোকজন।

এমনকি পুলিশের জরুরী সেবা *৯৯৯* এ ভূক্তভোগী সাবানা বেগম অত্যাচারের বিষয়ে জানালেও সেখানে গিয়েও পরবর্তীতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলেও জানায় সাবানা বেগম।

তাহলে কি? এই মোখলেশুর রহমানের কাছে জেলার মিডিয়াকর্মী, সমাজ সেবক, বিবেকবান মানুষগুলো, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সকলেই জিম্মি বা ভয়ে শংকিত? নাকি কোন অজ্ঞাত কারন-এমনটায় প্রশ্ন সেখানে বাস করা অসহায় ভূমিহীন পরিবারের বৃদ্ধা, নারী-পুরুষদের।”

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের জামতাড়া এলাকার নওহাট্টা মৌজার ছিত্রাপুকুরে সরকারী তত্বাবধানে থাকা জমিতে ২০০৬ সাল থেকে বসবাস করছে নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারা সহায় সম্বলহীন বেশ কিছু পরিবার। সেই জমি জাল কাগজপত্র তৈরী করে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের সহযোগিতায় নিজ নামে ক্রয় করে নিজ দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জোসনারা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধীকারী ও গ্রামীণ ট্রাভেলস্ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোখলেশুর রহমান।

সেই জমি থেকে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করে অসহায় ভূমিহীন পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করার অংশ হিসেবে হুকমী-ধামকী, চারিদিকে উচুঁ বাঁধ দিয়ে এবং কাঁটা দিয়ে বেড়া বেঁধে বের হওয়ার সকল রাস্তা বন্ধ করে বন্দি করে রাখা, পানি ব্যবহারের সকল পথ বন্ধ করা, রাতে বাড়ি-ঘরের চাল ও অন্যান্য জিনিষ নষ্ট করা, ওইসব বাড়িতে রাতে ইট-পাটকেল চালানো, সেখানে পুকুরে থাকা মাছ মেরে নেয়ামহ সব ধরনের নির্যাতন চালিয়ে অবশেষে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অসহায় মানুষগুলোর বাড়িঘরগুলো গুড়িয়ে দিয়ে মালামালগুলো লুট করে নিয়ে যায় মোখলেশুর ও তাঁর লোকজন।

এসব নির্যাতন ও অমানবিক কাজে মোখলেশুর বাহিনীকে সহযোগিতাসহ হাতে-হাত মিলিয়ে কাজ করেন ঝিলিম ইউনিয়নের সংরক্ষিত (৭,৮,৯) নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য মোসা. তাসলিমা বেগম।

এসময় সেখানে থাকা পল্লী বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন, বৈদ্যুতিক মিটার ভেঙ্গে তছনছ করে মাটিতে পুতে দেয়া হয়েছে। একটি সোলারও ভাঙচুর করে নষ্ট করে দেয় মোখলেশুর ও তাঁর লোকজন বলেও জানায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো।

অসহায় পরিবারগুলো (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) রাতভর খোলা আকাশের নিচে রাত কাটায় এই প্রচন্ড শীতে।
এইতো মানবতা, এইতো সমাজ সেবা? সত্যিই প্রশংসনীয় কর্মকান্ড।

অন্যদিকে, মোখলেশুর ও তাঁর লোকজনের অত্যাচারে সেখানকার অসহায় পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্য থেকে আব্দুল মালেকের স্ত্রী সাবানা বেগম অচেতন হয়ে পড়ে থাকলেও মোখলেশ বাহীনির লোকজনের ভয়ে কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে পারেনি পরিবারগুলো।

উপায়ান্তর না দেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এর সহযোগিতা নিয়ে সাবানা বেগমকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয় বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। এছাড়া সদর থানা পুলিশকে জানালে, পুলিশ সেখানে গিয়ে মোখলেশুরের অটো রাইস মিলে গিয়ে নৈশভোজ করে চলে আসে বলেও জানায় পরিবারগুলো।

এসব অত্যাচার-নির্যাতন ও বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের বিষয়সহ ঘটনার বিবরণ দেন সেখানে বাস করা মো. আব্দুল মালেক, মহোবুল, মইদুল, সালসা ফুরিসহ অন্যান্য সদস্যরা।

আদালতের আদেশ অমান্য করে ভূমিহীন পরিবারগুলোর উপর অত্যাচার ও বাড়িঘরের মালামাল লুট ও ভাঙচুরের বিষয়ে ঝিলিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম মতুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি অবশ্যই অন্যায় এবং প্রশাসনিকভাবে এর একটা ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন।

বিষয়গুলো নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাফফর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।

এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান পিপিএম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই।

বিষয়গুলোর সরজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবার ও জেলার সচেতন মহল।

News Desk
আমরা স্বাধীনতার পক্ষে
http://www.shaplanewsbd.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *