আরও চাঁপাইনবাবগঞ্জ লিড নিউজ

সরকারী জমি দখলের ষড়যন্ত্র মোখলেশুরের || অবরুদ্ধ হয়ে বিপাকে ভূমিহীন পরিবারগুলো

Please follow and like us:

✍️স্টাফ রিপোর্টার✍️
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের জামতাড়া এলাকার নওহাট্টা মৌজায় কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের মহোৎসব চালানো হচ্ছে। একদিকে কৃষি জমিতে পুকুর খনন। অপরদিকে সরকারী তত্বাবধানে থাকা প্রায় ১২ বিঘা জমি দখলের ষড়যন্ত্র সফল করতে সরকারী জমির চারিদিকে বিশাল বাঁধ তৈরী করে সরকারী জমিতে দীর্ঘদিন (১৫ বছর) থেকে বসবাস করা ভূমিহীন পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ভূমিহীন ও ঘরহীনদের মাথাগোঁজার ঠাই করে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই উল্টো সরকারী জমিতে বাসকারী ভূমিহীনদের উচ্ছেদের ফন্দি করছেন ‘গ্রামীণ ট্রাভেলস্’ এর চেয়ারমান, জোসনারা অটো রাইস মিলের স্বত্তাধিকারী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের নব্য সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. মোখলেশুর রহমান।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সরকারী জমি নিয়ে আদালতে মামলা, আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য, সংশ্লিষ্ট জমি উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ বা ভূমিহীন পরিবারের রক্ষনাবেক্ষন বিষয়ে কারো কোন দায়িত্ব আছে বা সরকারী জমি উদ্ধারের বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। বিপাকে পড়ে কান্নায় বুক ভাসিয়ে দিনরাত কাটাচ্ছেন সেখানে বসবাসকারী বৃদ্ধা-শিশুসহ পরিবারগুলো। তাদের নানাভাবে অত্যাচার করে সেখান থেকে উচ্ছেদের নানা কৌশল করে চলেছেন দীর্ঘদিন থেকেই আলহাজ্ব মো. মোখলেশুর রহমান ও তাঁর অন্যান্য সহযোগিরা।

এর সাথে আর জড়িত রয়েছেন ওই সরকারী জমির কিছু অংশ দখলকারী ‘আতিক অটো রাইস মিল’ এর মালিক মো. মফিজ উদ্দিন ও তাঁর বাহিনীর লোকজন।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের জামতাড়া এলাকার নওহাট্টা মৌজার আর.এস ০৪ খতিয়ানের ৩.৯৯ একর জমি প্রাক্তন জমিদারদের (অবনি মোহন মৈত্র দিং) নামে রেকর্ডীয় প্রজাগন সরকারের কাছে সোপর্দ করে এবং উক্ত জমি সরকারের তত্বাবধানে ভেষ্ট্রেট এন্ড ননরেসিডেন্ট হিসেবে বর্তমানে রক্ষিত আছে।

কিন্তু কৌশল করে কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার গ্রামের মৃত পিয়ার বিশ্বাসের ছেলে ভূমিদস্যু মো. আব্দুল হামিদ একই এলাকার মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে ভূমিদস্যু মো. নজরুল ইসলাম ভূয়া কাগজপত্র তৈরীর মাধ্যমে সরকারী তত্বাবধানে থাকা জমি বিক্রি করে। সেই জমি ক্রয় করে গ্রামীণ ট্রাভেলস এর চেয়ারম্যান ও জোসনারা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. মোখলেশুর রহমান ও ‘আতিক অটো রাইস মিল’ এর মালিক মো. মফিজ উদ্দিন এবং নাজিমুদ্দিন নামে একজন।

জমি ক্রয়ের পর উক্ত জমি খারিজ করার জন্য ঝিলিম ইউনিয়নের ভূমি অফিসে কাগজপত্র জমা দেয়া হলে বর্তমান ঝিলিম ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. সেরাজুল ইসলাম সরকারী জমি রক্ষা না করে যোগসাজস ও ব্যক্তিস্বার্থে অজ্ঞাত সুবিধা ভোগের বিনিময়ে সরকারের তত্বাবধানে থাকা জমি খারিজ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন থেকেই সরকারী জমিতে বসবাসকারী ভূমিহীন পরিবারগুলোকে হঠাৎ করেই ওই জমি থেকে সরে যেতে বলে এবং বাড়িঘর ভেঙ্গে নিয়ে দ্রুতই জমি খালি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে জোসনারা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. মোখলেশুর রহমান।

কিন্তু সরকারী জমি নিশ্চিত জেনেই ওই সরকারী জমিতে বাসকরা পরিবারগুলো সেখান থেকে না সরলে পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক পেশীশক্তি খাটিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। মোখলেশুরের পরিবারের সদস্য ও বাহিনীর লোকজনের অত্যাচার এবং চাপ সহ্য করতে না পেরে কিছু পরিবার সামান্য অর্থের বিনিময়ে ওই জমি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। কিছু পরিবার চলে যেতে বাধ্য হলেও দীর্ঘদিন থেকে নানা অত্যাচার সহ্য করে হলেও সেখানে বসবাস করতে থাকে এবং বর্তমানেও ওই জমিতে বাস করছে কিছু পরিবার।

অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ওই জমিতে বাসকরা পরিবারগুলো আদালতের আশ্রয় নেয় এবং সরকারী জমি তত্বাবধান ও তাদের রক্ষার জন্য গত ০৫/০৮/২০২০ইং তারিখে জেলা প্রশাসনে আবেদন ও অভিযোগ দায়ের করে। আইনের আশ্রয় ও জেলা প্রশাসনে বিষয়টি জানানোর জন্য ওইসব পরিবারের উপর আরও নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। পরিবারগুলোর নারী-শিশুদের মারধর ও হত্যার হুমকীসহ এবং তাদের সেখানে থেকে উচ্ছেদের জন্য নানান ষড়যন্ত্র শুরু করে জোসনারা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. মোখলেশুর রহমান।

জেলা প্রশাসনে কর্মরত কিছু কর্মকতা-কর্মচারী সরকারী জমি উদ্ধারে সহায়তা না করে ভূমিহীন পরিবারগুলোকে সেখান থেকে উচ্ছেদের জন্য সহযোগিতার কাজে উঠেপড়ে লাগে। এমনটি উক্ত জমির উপর হওয়া অভিযোগ ও মামলার কার্যক্রম নিয়েও ষড়যন্ত্র শুরু করে। সরকারী জমিতে থাকা পরিবারগুলো অবরুদ্ধ এবং চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে সেখান থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে করোনাকালে জোসনারা অটো রাইস মিলের বাহিরে কৃষি জমিতে প্রশাসনের কোন অনুমতি বা জমির শ্রেনী পরিবর্তণ বা কোনপ্রকার আইনের তোয়াক্কা না করে সরকারী ওই জমির পার্শবর্তী কৃষি জমিতে প্রায় ১০ থেকে ১২টি বড় বড় পুকুর খনন করেন মোখলেশুর রহমান। যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার “কৃষি জমি নষ্ট করে কোন স্থাপনা বা পুকুর খনন না করা” আহবান এবং সরকারী বিধিমালার বহির্ভূত।

কিন্তু সরকারী আদেশ অমান্য করে এবং সরকারী তত্বাবধানে থাকা ওই জমি থেকে ভূমিহীন পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে গত ১৯ জানুয়ারী/২১ ড্রেজিং মেশিন দিয়ে আবারও কৃষি জমিতে পুকুর খনন কাজ শুরু করে। বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদর চাঁপাইনবাবগঞ্জ অবহিত হলে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কয়েকদিন পরই অজ্ঞাত কারনে গত ২৬ জানুয়ারী/২১ তারিখ থেকে আবারও ড্রেজিং মেশিন দিয়ে কৃষি জমিতে খনন কাজ শুরু করে।

অবৈধভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন কাজ চলতে থাকলে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে বিষয়টি অবহিত করলেও কোন পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা নেয়া হয়নি অদ্যবধি। প্রশাসনিকভাবে কোন পদক্ষেপ না গ্রহণের সুযোগ নিয়ে আরও দ্রুতই পুকুর খনন কাজ চালাতে থাকে জোসনারা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. মোখলেশুর রহমানের লোকজন।

ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং প্রশাসনের অবহেলার সুযোগ পেয়ে তাঁর জমিতে পুকুর কাটতে থাকলেও ২৭ জানুয়ারী বিকেল থেকে ওই সরকারী জমির চারিদিকে বিশাল বাঁধ দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে। ফলে সেখানে বাসকরা পরিবারগুলোর পানির ব্যবস্থাসহ সকল প্রকার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ২৮ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুকুর খনন কাজ এবং বিশাল আকৃতির বাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান ছিলো। সেখানে বাস করা পরিবারগুলোর কোন আহাজারি জোসনারা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. মোখলেশুর রহমানের শ্রবনে আসেনি। উল্টো তাঁর লোকজন বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও কৌশলের কথা বলে হতাশা সৃষ্টি করে চলেছে।

এদিকে, উক্ত জমির উপর চলমান মামলায় সরকারী জমি রক্ষা এবং ভূমিহীন পরিবারগুলো বাঁচতে গত ২৭ জানুয়ারী বিজ্ঞ আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে অবহিত করলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সেখানকার জমি দখল ও পরিবারগুলোর উপর নির্যাতনের বর্ণণা অবহিত হয়ে ওই জমির উপর পুণরায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন ২৭ জানুয়ারী/২১ তারিখে। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে মামলায় অন্তর্ভূক্ত থাকা ১৩২ নম্বর দাগের জমির উপর পাকা স্থাপনা (আরসিসি পিলার দিয়ে) শুরু করেছে এবং চলমান আছে।

এভাবে অবৈধভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন এবং আদালতের আদেশ অমান্য করে স্থাপনা করায় ওই এলাকার হাজার হাজার কৃষক ও জমির মালিকও জিম্মি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার কৃষকগণ চরম কষ্ট ও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এবং এসবের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেবেন্দ্র নাথ উঁরাও এর সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
বিষয়টির সরজমিন তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবারগুলো ও ভোগান্তির শিকার কৃষকগণ।

News Desk
আমরা স্বাধীনতার পক্ষে
http://www.shaplanewsbd.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *