অপরাধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ লিড নিউজ

বিতর্কিত উজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান’র যত অপকর্ম চলত কথিত ইউপি অফিসে

Please follow and like us:

তারেক আহম্মেদ→ চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ
সরকারি জমিতে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস থাকলেও ক্ষমতার দাপটে নিজ পৈতৃক ভিটায় পরিষদের অফিস নিয়ে গেছে উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিন। পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় তৈরী করেছে নিজের ডেরা। এখান থেকেই পরিচালিত হতো বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজের সকল অবৈধ কর্মকাণ্ড।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে বসেই চেয়ারম্যান ফয়েজ মাদক, অস্ত্র এবং জাল টাকার কারবার নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলো। আর কথিত ইউনিয়ন পরিষদের অফিসকে বানিয়েছিলো টর্চার সেল। ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহৃত হতো কথিত ইউপি কার্যালয়টি।

এছাড়া অফিসটি মাদক সেবনের আখড়াও বলে জানায় এলাকাবাসী। ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ এলাকাটি চোরকচালানের স্পট হিসেবে বেছে নিয়েছিলো চেয়ারম্যান ফয়েজ। ভারতীয় গরু ব্যবসা ও গরু ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ছিনতাই করে আনা গবাদিপশু বৈধ করার জন্য নিজেই বসিয়েছে অবৈধ পশুর হাট।

বুধবার রাতে রুবেল হোসেন নামের এক যুবকের দুই হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করার অপরাধে ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপরই উজিরপুর ইউনিয়ন বাসীসহ অনেক ভুক্তভোগী মুখ খুলতে শুরু করেছে ফয়েজ’র বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে উজিরপুর ইউনিয়নে গেলে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের প্রতিবেদকের কাছে ফয়েজ চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তর ইতিবৃত্ত তুলে ধরে ভুক্তভোগীরা। কথিত ইউনিয়ন পরিষদের অফিসের কাছে গেলে স্থানীয় যুবক সাইফ খান জানায়, জলবাজার মোড়ে প্রায় ১০ বছর যাবৎ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়।

কিন্তু ফয়েজ চেয়ারম্যান হওয়ার পরে পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় তার পৈতৃক ভিটায় ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাগজ পত্র নিয়ে তার মনগড়া অফিসে চলে আসে। এবং এটিকে বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজ ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষণা করে। প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত এই অফিসে চলে ভয়াবহ মাদকের আড্ডা।

এছাড়া অপহরণ করে বিভিন্ন লোকজনকে নিয়ে এসে অমানবিক নির্যাতন চালাতো চেয়ারম্যান ফয়েজ। স্থানীয় যুবক সাইফ খান আরও জানায়, কিছুদিন আগে ফয়েজ চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে হুঙ্কার দিয়ে বলেছে ‘আমার কাছে ৪৪ টি পিস্তল আছে’। ৪ টি আমার কাছে সর্বসময় থাকে। আর বাকি ৪০ টি পিস্তল একমাত্র আমি ফয়েজ চেয়ারম্যান আমার নিরাপত্তার জন্য আমার লোকজন ব্যবহার করে। এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, চেয়ারম্যান ফয়েজ একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী।

উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তোসলিম উদ্দিন জানায়, ফয়েজ চেয়ারম্যান একজন সন্ত্রাসী। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১(শিবগঞ্জ) আসনের সাবেক সাংসদ গোলাম রাব্বানীর ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। বর্তমানে এই সন্ত্রাসী, মুখোষধারী ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজ বর্তমান সাংসদ ডাঃ সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল’র ছত্রছায়ায় রয়েছে। রুবেলসহ তিনজনকে ফয়েজ চেয়ারম্যান আটকে রেখেছে বলে এমপি শিমুলকে জানানো হলেও এমপি কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

ঘটনা জানার পরে এমপি শিমুল যদি দ্রুত ব্যবস্থা করতো তাহলে রুবেলের দুটি হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করার দুঃসাহস দেখাতে পারতনা ফয়েজ চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডার বাহিনী।

উজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুরুল হোদা জানায়, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপি করে ফয়েজ চেয়ারম্যান হয়েছে। তৎকালীন এমপি গোলাম রাব্বানী ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ ইরতিজা আহসান যোগসাজশ করে ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে চেয়ারম্যান বানিয়েছে ফয়েজকে। চেয়ারম্যান ফয়েজের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে ৬ টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ৩ টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিলো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট থানার প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১(শিবগঞ্জ) আসনের সাংসদ ডাঃ সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল জানায়, ফয়েজ একজন ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমার সাথে যতটুকু সম্পর্ক থাকার দরকার ততটুকুই ছিলো। ঘটনার দিন রাতে আমি বিষয়টি জানার পরে রুবেলসহ তিনজন ছেলেকেই ছেড়ে দিতে কঠোর হুঁশিয়ারী দিই চেয়ারম্যান ফয়েজকে। শুধু তাই নয়, তাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্যও বলি। এমনকি তাদের যেন মারধর না করা হয় সে কথাও বলি। ফয়েজ চেয়ারম্যান উত্তরে আমাকে বলে তাদের ছেড়ে দিবে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি এমন নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি বিষয়টি আঁচ করতে পারলে এমনটি হতে দিতাম না। এমন জঘন্য অপরাধের কোন ক্ষমা হতে পারেনা, সেই যত বড়ই ব্যক্তি হোক। ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজসহ তার ক্যাডার বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য যা যা করার আমি করবো।

উল্লেখ্য, গত বুধবার গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজ ও তার ক্যাডার বাহিনী রুবেল নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ এলাকার তালতলা মোড়ে দুই হাতের কব্জি কেটে নেয়। আহত রুবেল শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের খোদাবক্সের ছেলে।

গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রুবেল বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

News Desk
আমরা স্বাধীনতার পক্ষে
http://www.shaplanewsbd.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *