অপরাধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ লিড নিউজ সারাদেশ

কে এই তোসলিমা ? যার প্রধান কাজ নজিরবিহীন প্রতারণা ও জালিয়াতি

Please follow and like us:

স্টাফ রিপোর্টার🚏
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার পিড়ানচক গ্রামের মৃত সালেমন শাহ’র মেয়ে তোসলিমা বেগম নানা কৌশলে নজিরবিহীন জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছে।
অত্যন্ত সুকৌশলে তরুন যুবকদের ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়াও তার প্রধান কাজ।

পূর্বের স্বামী নূর মোহাম্মদ। তোসলিমা বেগম নানান কৌশলে জালিয়াতি, মামলা ও সম্মান হানীর ভয় দেখিয়ে টাকা রোজগার করেন বলে জানা গেছে। তোসলিমা বেগম নিজেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন যাহার বিষয় ছিল চেক সংক্রান্ত মামলার বিচার চেয়ে আবেদনটি করেছিলেন। এমনকি একই আবেদনে তিনি ঢাকা এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিচয়ও দিয়েছেন।

জানা যায়, তিনি কখনোই জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন না। এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যানও ছিলেন না। তিনি আরও পরিচয় দেন ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী করেন। কখনোও পরিচয় বহন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবেও।

নিজের জালিয়াতির প্রয়োজনে সিনিয়র স্টাফ নার্সের সিলও ব্যাবহার করেন। গ্রামের সহজ সরল কয়েকজন যুবকের কাছে ব্যাংকে,হাসপাতালে,সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরী দিবে বলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পাওনা টাকা চাইলে উল্টো তিনি মামলা করার হুমকী দেন ভুক্তভোগীদের। অনেকজনকে ব্যাংকের চেকও প্রদান করেছেন তোসলিমা নামের স্বাক্ষরিত।

কিন্তু ব্যাংকে তাহার একাউন্ট থাকলেও ব্যাংক তহবিলে কোন টাকা নেই। বিভিন্ন টালবাহানা করেন আজ দিবো কাল দিবো, কিন্তু ভূক্তভোগীরা টাকা পাইনা।

এছাড়াও তোসলিমা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সীল স্বাক্ষর জাল করে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। জাতীয় সংসদ সদস্য’র স্বাক্ষর ও সিল জাল করতেও তিনি দ্বিধা বোধ করেন না।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে,মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহী বরাবর এই জালিয়াত, প্রতারক তোসলিমা কয়েকটি শিক্ষা সনদ পত্রের ভুয়া আবেদন করে এবং সেই আবেদনে সুপারিশ করা হইলো মর্মে, সাক্ষর ও সীল পাওয়া যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩ আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুল ওদুদের।

এখানেই শেষ নয় তোসলিমার প্রথম স্বামী নূর মোহাম্মদ এর সাথে সংসার জীবনে আবদ্ধ হয়েছিলেন কিন্তু তোসলিমা বেগম বাইরের লোকদের সাথে উঠা বসা করতেন যা তার স্বামী পছন্দ করতেন না। এক পর্যায়ে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। পূর্বের স্বামীর দুইজন কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রথম কন্যার বিয়ে দিয়েছেন। দুটি কন্যাই নূর মোহাম্মদ এর কাছে লালিত পালিত হয়েছে। দ্বিতীয় স্বামী রাকিব নামের একজন বলে জানা যায়।

কিন্তু তার বর্তমান স্বামী তোহিদ ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী করেন। এখানেও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বিভিন্ন সময় বাসা ভাড়া করে থাকেন। শহরের কিছু মাদকসেবী ও মাদক সিন্ডিকেট’র সাথেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে।

তোসলিমার দায়েরকৃত মামলা থেকে রেহাই পাননি গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গসহ সরকারী কর্মকর্তারাও। তোসলিমা এক সময় সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ক্লাইন্ট সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ করতেন নওগাঁ জেলার আওতাধীন।

কিন্তু ফার ইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পনীর বীমা গ্রহীতা বিমা নং- ০৬০০০০৯৮-১৭-৫ মরহুম মোঃ মতিউর রহমান পিতাঃ মোঃ জব্দুল হক সাং পোলাডাঙ্গা থানা ভোলাহাট চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর নমিনি মোছাঃ ফিরোজা খাতুন শিউলী স্বামী মৃত মতিউর রহমান সাং- পোলাডাঙ্গা, থানাঃ ভোলাহাট, জেলাঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এর নামে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী কর্তৃক ইস্যুকৃত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ পল্টন শাখা ঢাকা ব্রাঞ্চ প্রেরিত চেক নং- ওইড০২২২৭৩১ টাকার পরিমান = ১,২৭,৮৯৯/- (এক লক্ষ সাতাশ হাজার আটশত নিরানব্বই) টাকা । এর মাধ্যমে প্রেরণ করেন। কিন্তু তোসলিমা বাদী হয়ে চেক গ্রহীতার উপর মামালা করেন মামলা নং ৫৯/১৭ ভোলাহাট।

উল্লেখ্য,ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ক্লাইন্ট মরহুম মতিউর রহমানের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন মরনোত্তর চেক প্রদান করায় উক্ত চেকটি মামলার বাদী তোসলিমা বেগমম তাহার বীমা কোম্পানির ক্লাইন্ট শিউলী বেগমের দাবী করে মিথ্যা দরখাস্ত জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন অফিসে অভিযোগ করেন। এবং তোসলিমা বেগম ব্যাংক কর্মকর্তা,গন্যমান্য ব্যক্তিসহ পাঁচজনের উপর মামলাও করেন।

আসামী (১) মোছাঃ শিউলী খাতুন, চেক গ্রহীতা (২) শাখা ব্যবস্থাপক রবিউল আওয়াল সোনালী ব্যাংক ভোলাহাট শাখা,(৩) ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী ভোলাহাট শাখা। (৪) সাবেক ভোলাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, (৫) ইনচার্জ সাধন মিয়া, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোং লিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখা। বাদী তোসলিমা বেগম শিউলী খাতুনের কাছে থেকে কিছু টাকা আত্মসাৎ করার অভিপ্রায় ফিরোজা খাতুনসহ কিছু গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে আসামী করে মামলাটি করেন।

বাদী তোসলিমা বেগম ফারইষ্ট ইসলামী ব্যাংক লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর সাথে কোন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নয়। মামলায় প্রমানিত হয় বাদীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। গন্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় দঃবিঃ আইনের ২১১ ধারা মোতাবেক তোসলিমাকে সাজা প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত।

তোসলিমার নিজ গ্রাম ভোলাহাটে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিকট জানতে চাইলে, নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন,এই মহিলা খারাপ লোকদের সাথে চলাফেরা করে। মাদকসেবী ও মাদক সিন্ডিকেট’র সাথে বেশি ঘনিষ্ট বলেও জানা যায়। ফাঁদে ফেলা, বিপদে ফেলা তার প্রধান কাজ। তিনি অসংখ্য সম্মানী ব্যক্তিদের সম্মান হানীও করেছেন। তার এসব জালিয়াতির ফাঁদ থেকে প্রতিকার চাই এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।

News Desk
আমরা স্বাধীনতার পক্ষে
http://www.shaplanewsbd.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *